শরয়ী হিজাব
আল্লাহ তাআলা মানবজাতিকে নারী ও পুরুষ দুই ভাগে সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের মাধ্যমে মানবজাতির বিস্তার ঘটিয়েছেন। নিজ নিজ অবস্থা ও উপযোগিতা অনুসারে দুনিয়ার দায়িত্ব-কর্তব্য পালন ও আল্লাহ তাআলার ইবাদত-বন্দেগীর ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ উভয়েই অংশীদার। আকাইদ, মুআমালাত, মুআশারাত, আখলাক, কৃতকর্মের প্রতিদান পুরস্কার কিংবা শাস্তি, সাওয়াব ও ফাযায়েলসহ শরীয়তের সাধারণ দায়িত্ব ও অধিকারের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের মাঝে কোনো পার্থক্য নেই।
তবে সৃষ্টির উদ্দেশ্য এবং দৈহিক ও মানসিক গঠনের দিক থেকে আল্লাহ তাআলা তাদের মাঝে কিছু পার্থক্য রেখেছেন। পুরুষকে বানিয়েছেন কিছুটা শক্ত-কঠিন। তার ওপর ন্যস্ত করেছেন পরিবারের দায়িত্ব, ভরণ-পোষণ, নিরাপত্তাবিধান প্রভৃতি। পক্ষান্তরে আল্লাহ তাআলা নারীকে বানিয়েছেন কোমল ও পেলব। তাকে বানিয়েছেন দুনিয়ার জান্নাত; তিনি স্বামীর জন্য প্রশান্তি এবং সন্তানের জন্য আশ্রয়।
একমাত্র ইসলামই নারীকে দিয়েছে সর্বোচ্চ মর্যাদা ও অধিকার। সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও সুরক্ষা। আল্লাহ তাআলা নারীদেরকে নিজেদের সৌন্দর্য ও আভরণ সংরক্ষণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। সে লক্ষ্যে পর্দার বিধান দিয়েছেন।
সূরা নূরের ৩১ নং আয়াতে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন⸺‘এবং তারা যেন নিজেদের ভূষণ স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভাই, ভাতিজা, ভাগনে, আপন মালিকানাধীন নারীগণ, যৌনকামনা নেই এমন পুরুষ খেদমতগার এবং নারীদের গোপনীয় অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ বালক ছাড়া আর কারও সামনে প্রকাশ না করে। মুসলিম নারীদের উচিত ভূমিতে এভাবে পদক্ষেপ না করা, যাতে তাদের গুপ্ত সাজ জানা হয়ে যায়। হে মুমিনগণ! তোমরা সকলে আল্লাহর কাছে তাওবা কর, যাতে তোমরা সফলতা অর্জন কর।’
বলাবাহুল্য, নারীর নিজের ও নিজের সৌন্দর্যকে পরপুরুষ থেকে আড়াল রাখার সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর উপায় হলো গৃহে অবস্থান। গৃহের চার দেয়ালের ভেতর অবস্থান করা এবং পর পুরুষের সামনে না যাওয়া ও তাদের সঙ্গে ওঠাবসা-চলাফেরা থেকে বিরত থাকাই নারীর জন্য বড় পর্দা। আর এজন্যই আল্লাহ তাআলা নারীকে আদেশ করেছেন গৃহের অভ্যন্তরে অবস্থানের। সূরা আহযাবের ৩৩ নং আয়াতে ইরশাদ করেছেন, ‘আর তোমরা স্বগৃহে অবস্থান করবে এবং প্রাচীন (অজ্ঞ) যুগের (নারীদের) মতো নিজেদেরকে প্রদর্শন করে বেড়াবে না।’
বোঝা গেল, নারীর প্রধান কর্মক্ষেত্র ও তার সকল কর্মব্যস্ততা হবে গৃহের অভ্যন্তরে। ঘরোয়া ও সাংসারিক কাজকর্মই হবে তার প্রধান কাজ। প্রয়োজনে সে বাইরে যেতে পারবে; কিন্তু তা হবে প্রয়োজনবশত ও প্রয়োজন পরিমাণ। এ সময়ও নিজেকে ও নিজের সৌন্দর্যকে রাখতে হবে পরপুরুষের দৃষ্টির আড়ালে।
বিশেষত যখন বর্তমান সমাজে নারীর নিরাপত্তা সর্বোচ্চ ঝুঁকির সম্মুখীন। অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজ সর্বত্রই এখন নারী অনিরাপদ। তার ইজ্জত-সতীত্ব, জীবন-প্রাণ প্রতি মুহূর্তে চরম হুমকির সম্মুখীন। এমন সময়ে নারীর জন্য বেপর্দা হয়ে ঘরের নিরাপত্তা বলয় থেকে বের হওয়া, নিজেকে নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি করা, নিজের সতীত্বকে হুমকির মুখে ঠেলে দেওয়া কোনো বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারে না।
